OrdinaryITPostAd

প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারের উপকারিতা -অভাবজনিত রোগগুলো কী কী

প্রোটিন আমাদের দেহের একপ্রকার চালিকাশক্তি। প্রোটিন ছাড়া মানব দেহ অচল। আজকের আলোচনায় প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারের উপকারিতা, এর গুরুত্ব এবং অভাবজনিত রোগ গুলো কী কী সেগুলো নিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করব। 


প্রোটিন হচ্ছে এমন একটি গুণাগুণ যেটি আমাদের দেহ নিজে নিজে তৈরি করতে পারে না। বাহিরের খাদ্যবস্তুতে এটি পাওয়া যাবে। মানব দেহের জন্য প্রোটিনের গুরুত্ব অপরিসীম কারণ এটি পেশী গঠন করতে সাহায্য করে,ক্ষতিকর টিস্যু পুনর্গঠনে সাহায্য করে। এর বিভিন্ন কাজ সম্পর্কে আজকের আর্টিকেল মাধ্যমে জানতে পারবো ।


পোস্ট সূচিপত্র :প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারের উপকারিতা অভাবজনিত রোগগুলো কী কী


প্রোটিন কী

প্রোটিন আমাদের দেহের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান।কার্বন,হাইট্রোজেন,অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন এর সমন্বয়ে গঠিত হয়ে থাকে প্রোটিন। যে সমস্ত খাদ্য আমরা নিয়মিত খাই তার মধ্যে প্রোটিন হচ্ছে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি খাদ্য উপাদান। প্রোটিন হচ্ছে এক ধরনের এমাইনো এসিড যেটি প্রতিটি দেহের জন্য প্রয়োজন। দেহের গঠন সহ ক্ষয় পূরণকারী খাদ্য হিসেবে প্রোটিন বা আমিষজাতীয় খাদ্য পরিচিত। 


রাসায়নিকভাবে বিভিন্ন খাদ্য উপাদান কে 6 ভাগে ভাগ করা হয়েছে তার মধ্যে প্রোটিন অন্যতম।দেহকে  কর্মক্ষম রাখতে প্রতিটি খাদ্য উপাদানের পাশাপাশি প্রোটিনের খাদ্য উপাদান অতি প্রয়োজনীয় বিশেষ করে জীবিকা নির্বাহের জন্য। খাদ্যে উপস্থিত সকল পুষ্টি উপাদানের মধ্যে প্রোটিন শরীরে জারিত হয়ে তাপ ও শক্তি উৎপন্ন করে। মানব দেহের জন্য প্রোটিনের ভূমিকা অপরিসীম।


প্রোটিন শব্দটি গ্রীক শব্দ থেকে এসেছে। প্রোটিনের সমন্বয়ে ঘটিত হয়ে থাকে প্রতিটি জীব কোষ। প্রোটিন ছাড়া মানব কুলের অস্তিত্ব কল্পনা করা সম্ভব নয়। কারণ প্রোটিন দেহে বিভিন্ন কোষ গঠন করে এবং স্বয়ংক্রিয় করে থাকে। দেহ গঠনে প্রোটিন বিশেষ কাজ করে। তাই প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার প্রতিটি ব্যক্তির সর্বপ্রথম এবং প্রধান হিসেবে  গ্রহণ করা উচিত। 

মানবদেহের জন্য প্রোটিনের গুরুত্ব 

প্রোটিন ছাড়া মানবদেহ গঠন করা সম্ভব না। এটি মানব অস্তিত্ব রক্ষা করে থাকে। পেশি,মাংস সহ আরো প্রয়োজনীয় কোষ তৈরির প্রধান উৎস হচ্ছে প্রোটিন।চারটি রাসায়নিক পদার্থের সমন্বয়ে গঠিত হয়  এই অ্যামাইনো এসিড। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গণনাহীন অ্যামাইনো এসিড এর সমন্বয়ে প্রোটিনের অনু তৈরি হয়ে থাকে। 

প্রোটিন বিভিন্ন রূপে কাজ করে থাকে। যেমন জৈবিক বিক্রিয়ার হার নিয়ন্ত্রণ করা। মানুষের শরীরের সবচেয়ে প্রধান একটি উপাদান হচ্ছে রক্ত আর রক্তের প্রধান উপাদান হচ্ছে হিমোগ্লোবিন। এই হিমোগ্লোবিন প্রোটিন থেকে সৃষ্টি হয়ে থাকে।  অর্থাৎ প্রোটিন মানবদেহে রক্ত সৃষ্টি করতেও সাহায্য করে। দেহের বিভিন্ন জারক রস প্রোটিন থেকে উৎপন্ন হয়ে থাকে।

দেহের সবচেয়ে সুন্দর দুইটি উপাদান হচ্ছে চুল ও চামড়া এই দুইটি জিনিস এর রং ঠিক রাখতে প্রোটিনের ভূমিকা অপরিহার্য।অন্যদিকে  প্রোটিন দেহে রক্তক্ষরণ বন্ধ করে। অর্থাৎ যে কোন ক্ষতস্থান থেকে যদি রক্ত বের হয় ফেব্রিন এটি বন্ধ করতে সাহায্য করে। এই উপাদানটি মূলত প্রোটিন থেকে উৎপন্ন হয়ে থাকে। 

কোন কোন খাবার থেকে প্রোটিন পাওয়া যায় 

প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার বলতে সর্বপ্রথম যে সকল খাবার কে বুঝায় সেটি হচ্ছে ডিম, দুধ।এই উপাদানগুলোতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে।তবে অনেকে আছে যারা ডিম খেতে পছন্দ করে না কি ডিম খেলে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে তারা চাইলেই প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করার জন্য অন্য সকল প্রোটিনযুক্ত খাবার খেতে পারে। 


এমন বেশ কিছু খাদ্য রয়েছে যেগুলোতে ডিমের কিংবা দুধের সমপরিমাণে প্রোটিন পাওয়া যায়। এই সকল খাবার শরীর প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হয়ে থাকে। এ সকল খাবারের নাম গুলো জেনে নেওয়া যাক। সবার প্রথমেই রয়েছে ছোলা যেটিতে প্রায় ৪০ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়। ডাউলের ক্ষেএে যেমন মুসুর ডাউল ডিমের পরিবর্তে খাওয়া যেতে পারে। 


এগুলোর পাশাপাশি রয়েছে সয়াবিন, বাদামের মাখন, মিষ্টি কুমড়ার বীজ ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে  প্রোটিন পাওয়া যায়। প্রোটিনকে সাধারণ দৃষ্টিকোণ থেকে দুই ভাগে ভাগ করা হয় যেমন:- প্রাণিজ প্রোটিন এবং উদ্ভিজ্জ প্রোটিন। এই উভয় প্রোটিন শরীরের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়।প্রাণী থেকে যে সকল প্রোটিন যুক্ত খাবার পাওয়া যায় তাকে প্রাণিজ প্রোটিন বলে।  প্রাণিজ প্রোটিন বিদ্যমান এমন কয়েকটি খাবারের নাম উল্লেখ করা হলো :-

  1. মাংস 
  2. ডিম 
  3. দুধের ছানা 
  4. দুধ
  5. মাছ
  6. মুরগির কলিজা
  7. পণির

প্রাণিজ প্রোটিন শরীরের মাংসপেশী বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে কারণ এতে অধিক পরিমাণে চর্বি থাকে পাশাপাশি অত্যাধিক অ্যামাইনো এসিড বিদ্যমান। সাধারণত যাদের ওজন কম কিংবা শুকনো তারা প্রানীজ প্রোটিন যুক্ত খাবার খেতে পারেন। এতে প্রায় সব প্রয়োজন পূরণের ক্ষমতা থাকে এবং উচ্চ ক্যালোরি  যুক্ত। প্রাণিজ প্রোটিনে থাকা মাছ, ডিম খেলে মস্তিষ্কের জ্ঞানশক্তি বৃদ্ধি পায় পাশাপাশি হৃদযন্ত্রের সমস্যা দূর করে। 


উদ্ভিদ থেকে পাওয়া যেসব খাবারে প্রোটিন থাকে তাকে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন বলে। উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের অত্যাধিক অ্যামাইনো এসিড থাকে না যতটা প্রাণিজ প্রোটিনে থাকে। শোষণ প্রক্রিয়ার হার প্রাণিজ প্রোটিনের থেকেও কম। তবে ওজন কমাতে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে পাশাপাশি ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।বিশেষজ্ঞদের মতে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় উদ্ভিজ্জ এবং প্রাণিজ প্রোটিন যুক্ত খাবার রাখা প্রয়োজন। উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের কয়েকটি উৎস হলো :-

  1. বাদাম 
  2. বিভিন্ন ধরনের ডাল 
  3. সবজির বিচি
  4.  সয়াবিন 
  5. চিয়া সিড 
  6. শাক
  7. ওটস
  8. মটরশুঁটি 
  9. ছোলা
  10. সূর্যমুখীর বীজ 

প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারের উপকারিতা 

যে সকল খাবারে প্রোটিন থাকে সেসব খাবার খাওয়া সবার  আগে প্রয়োজন। খাদ্যের বিভিন্ন প্রকারভেদ এর মধ্যে প্রোটিন একটি বিশেষ চাহিদা যুক্ত উপাদান। প্রোটিন দেহ গঠন করার পাশাপাশি দেহের শক্তি যোগানদাতা হিসেবে কাজ করে। অনেক সময় দেহের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষয়ের সম্মুখীন হয়ে থাকে  প্রোটিন সেই ক্ষয় পূরণ করতেও বিশেষভাবে কাজ করে। মানব দেহকে বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্ত করার জন্য প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার অন্যতম। 

প্রোটিন যুক্ত খাবার দেহকে সবল রাখতে সাহায্য করে।পাশাপাশি বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং রোগ মুক্ত করার জন্য বিভিন্ন এন্টিবডি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার থেকে সৃষ্টি হয়ে থাকে।তাই প্রতিটি মানুষের উচিত প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় প্রোটিন যুক্ত করা।
 

 প্রোটিন শরীরে কী কাজ করে

প্রোটিন আমাদের শরীরে বিভিন্ন কাজ করে থাকে। তার মধ্যে শরীরের বিভিন্ন পর্যায় রক্ষণাবেক্ষণ করতে সাহায্য করে। দেহের তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে যখন শরীরে কোন উপাদানের অভাব দেখা দেয়। পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। দেহে যদি অতিরিক্ত পরিমাণে জীবাণু সৃষ্টি হয় তখন সে সকল জীবাণু ধ্বংস করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন। 


মানবদেহে বিভিন্ন ধরনের হরমোন, ইনসুলিন, এনজাই ইত্যাদির প্রয়োজন হয়ে থাকে।প্রোটিন এই সকল প্রয়োজন মেটাতে সাহায্য করে। প্রোটিনের আরো কিছু বিশেষ বিশেষ কাজ আছে যেমন দেহের স্বাভাবিক রং বজায় রাখতে প্রোটিনের দরকার হয়ে থাকে। এটি দেহের পুষ্টির জন্য খুবই কার্যকারী একটি উপাদান। 


বিশেষ বিশেষ উপাদান তৈরির জন্য প্রোটিনের প্রয়োজন হয়ে থাকে যেমন :- হিমোগ্লোবিন, পেপসিন। এই বিশেষ উপাদান গুলো প্রোটিন থেকে উৎপন্ন হয়ে থাকে। আমরা জানি রক্তের প্রধান উপাদান হচ্ছে হিমোগ্লোবিন তাই হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বৃদ্ধি করার জন্য প্রোটিনের প্রয়োজন হয়। প্রোটিন কিংবা আমিষ জাতীয় খাদ্য পানির সমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। 


এটি আমাদের দেহের জন্য অ্যান্টিজেন তৈরি করে যেটি শরীরকে সুরক্ষা প্রদান করে থাকে । এর পাশাপাশি ক্ষার এবং অম্ল এর সমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। প্রোটিনের আরো না না বিদ সুবিধা ভোগ করার জন্য প্রতিদিন সুষম খাদ্য তালিকায় প্রোটিন যুক্ত খাবার রাখা প্রয়োজন। 
 

প্রোটিনের উদ্ভিজ্জ ও প্রাণিজ খাবারের উৎপত্তি 

উদ্ভিজ্জ ও প্রাণিজ উভয় খাবার থেকেই প্রোটিন পাওয়া যায়। প্রোটিনের কিছু প্রাণিজ উৎস হলো- পনির, ছানা,ডিম, দুধ,মাছ ইত্যাদি। উদ্ভিজ্জ উৎস গুলো হলো -ডাল,সয়াবিন, শিম, কাঁঠালের বিচি, মটরশুঁটি ইত্যাদি। এই সকল উপাদান থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিনের উৎপন্ন হয়ে থাকে। এই খাবারগুলো প্রোটিনের প্রয়োজন মেটাতে ভূমিকা পালন করে। শরীরে প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করার জন্য উদ্ভিজ্জ খাবারের পাশাপাশি প্রাণিজ খাবার তালিকায় রাখা উচিত। কারন আমাদের শরীরে উভয় উৎস থেকে প্রোটিনের চাহিদা সৃষ্টি হয়। 

প্রোটিনের অভাবে মানব দেহের অবস্থা ও প্রতিকার 

প্রোটিনের অভাবে মানবদেহে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। যেমন অনেক সময় রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কম থাকে যার কারণে অ্যানিমিয়া হয়। আর হিমোগ্লোবিনের সৃষ্টি প্রোটিন থেকে হয়ে থাকে যার কারণে প্রোটিনের অভাব খুবই মারাত্মক পরিনাম ডেকে আনে। ছোট থেকে শুরু করে বয়স্ক লোকেদের সকলেরই প্রোটিন প্রয়োজন। 


প্রোটিনের অভাবে বিশেষ করে শিশুদের ওজন হ্রাস পেতে থাকে দেহের বৃদ্ধি সাধনে বাঁধা  সৃষ্টি হয় । পাশাপাশি শিশুদের মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়।অন্যদিকে প্রোটিনের অভাবে বয়স্ক লোকেদের শরীর ফুলে যায় ফলে হাঁটতে অসুবিধা হয়।মানব দেহের ভিতরে যকৃত পরিচালনায় বাঁধা সৃষ্টি হয়। তাই যে কোন অবস্থায় শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত উভয় খাদ্যে প্রোটিন দরকার।  


প্রোটিনের অভাব দূর করার জন্য প্রোটিন জাতীয় বিভিন্ন খাদ্য যেমন- মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ইত্যাদি নিয়মিত খেতে হবে। শিশুদেরকে জন্মের পরপর মায়ের শালদুধ খাওয়াতে হবে। ৬ মাস অব্দি মায়ের দুধ খাওয়ানোর পরে আস্তে আস্তে শিশুর খাদ্য তালিকায় পরিবর্তন করতে হবে। অর্থাৎ প্রোটিন যুক্ত খাবার খাওয়াতে হবে। শিশুদের পাশাপাশি মায়েদেরও পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন গ্রহণ করতে হবে। 

প্রোটিনের অভাবজনিত রোগ গুলো কী কী

প্রোটিনের অভাবে মানব শরীরে বিভিন্ন ধরনের রোগ সৃষ্টি হয়ে থাকে। সে সকল রোগের মধ্যে দুইটা গুরুত্বপূর্ণ রোগ হচ্ছে - ম্যারাসমাস এবং কোয়াশিওরকর।ম্যারাসমাস:-এই রোগটি সাধারণত প্রোটিনের অপুষ্টিজনিত  অভাবে হয়ে থাকে।ম্যারাসমাস রোগের কিছু লক্ষণ হলো:-

  1. দেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অস্বাভাবিক থাকে। 
  2. ওজন হ্রাস পায়। 
  3. হাত-পা শুরু হতে থাকে। 
  4. শিশুর শরীরে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। 
  5. অন্য সকল শিশু থেকে এই রোগে আক্রান্ত শিশুর শরীরের মাংসপেশী শীর্ণ হয়। 

কোয়াশিওরকর রোগটি সাধারণত  যে সকল শিশুরা ছোটবেলায় মায়ের দুধ থেকে বঞ্চিত তাদের হয়ে থাকে। আবার তৎকালীন সময় বাড়তি খাবারে প্রোটিনের অভাব থাকায় এই রোগের সৃষ্টি হয়ে থাকে। সাধারণত এক বছর থেকে চার বছর পর্যন্ত শিশুদের এই রোগ হয়ে থাকে। এই রোগের  কিছু লক্ষণ হলো -

  1. চুল উঠে  পাতলা হয়ে যায়।
  2. এ সকল শিশুদের যকৃতের আকৃতি বৃদ্ধি পায়।
  3.  শিশুদের দেহে ঘা হয়।  
  4. এ সকল শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। 
  5. পায়ে শোথ হয়।

কিভাবে প্রোটিনের অভাবজনিত রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব 

কোয়াশিওরকর ও ম্যারাসমাস রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে প্রথম এবং প্রধান উপায় হচ্ছে খাদ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন যুক্ত করা। অন্যদিকে জন্মের পরপরই শিশুকে মায়ের শালদুধ এর পাশাপাশি বুকের দুধ ৬ মাস পর্যন্ত খাওয়াতে হবে। শিশু জন্মগ্রহণ করার আগে এই সকল বিষয়ে অবগত হওয়া আবশ্যক। কারণ এই সকল বিষয়ে অবগত না থাকলে পরবর্তীতে শিশুদের প্রোটিনের অভাবজনিত রোগ দেখা দেয়। 

শিশুদের ওজন মেপে দেখার পাশাপাশি কোন রোগে আক্রান্ত হলে সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। ছয় মাস পর শিশুকে বুকের দুধের পাশাপাশি প্রোটিন যুক্ত খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। অবশ্যই মা ও শিশু উভয়কেই প্রোটিন যুক্ত খাদ্য খেতে হবে এবং শরীরে পুষ্টির যোগান দিতে হবে। শিশু বেড়ে ওঠার সাথে সাথে তার খাদ্য তালিকায় প্রাণিজ  প্রোটিনের ব্যবস্থা করতে হবে। 

শেষ কথা

উপরোক্তির পোস্টটির মাধ্যমে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারের উপকারিতা ও এর অভাবজনিত রোগ গুলো কি কি এই সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে পেরেছি।আমাদের মানব শরীরে এই উপাদানটির যে কতটুকু ভূমিকা রয়েছে এই বিষয়ে অনেক তথ্য জানানো হয়েছে। আশা করি আমাদের সকলেরই খাদ্য তালিকায় প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার থাকবে।এরকম আরো গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট পেতে এই ওয়েবসাইটটির সাথে থাকুন ধন্যবাদ। 






এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

মিম ব্লগার আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন।প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪