শরীর সুস্থ স্বাভাবিক রাখার জন্য আমরা যেমন প্রোটিন, ভিটামিন, চর্বি ও খনিজ লবণ জাতীয় খাদ্য খেয়ে থাকি ঠিক তেমনি রাফেজ জাতীয় খাদ্য আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজন আজ আমরা জানবো আমাদের শরীরে রাফেজ জাতীয় খাবারের ভূমিকা কতটুকু?
রাফেজ জাতীয় খাবার বিভিন্ন উপায়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় তার পুষ্টি গুনাগুনের কাজ করে থাকে। এর মূলত কয়েক ধরনের কাজ রয়েছে আমরা এর কাজ সম্পর্কে নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব তাই জানতে হলে পুরো লেখাটি মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে।
সুস্থ স্বাভাবিক শরীর আমার জন্য আমরা প্রতিদিন কত কিছুই না করি কত ধরনের খাবার খেয়ে থাকি।প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় যেমন -প্রোটিন, ভিটামিন, আমিষ, শর্করা কিংবা খনিজ লবণ আছে কিনা সেই বিষয়ে আমরা খেয়াল রাখি। তবে একটা বিষয় আমরা সকলেই খেয়াল রাখতে ভুলে যাই সেই বিষয়টি হচ্ছে আমাদের খাদ্য তালিকায় রাফেজ জাতীয় খাবার আছে কিনা। চলুন জেনে নেই রাফেজ জাতীয় খাবারই বা কেন আমাদের খাদ্য তালিকায় রাখবো? রাফেজ হচ্ছে এক ধরনের আঁশ জাতীয় সবজি।এটা যে যেকোনো একটি নির্দিষ্ট সবজি তা না। এই উপাদানটি বিভিন্ন সবজির মধ্যে বৃদ্ধবিদ্যমান রয়েছে।
রাফেজ হচ্ছে এমন এক ধরনের খাদ্য উপাদান যেটি আমাদের সুস্থ স্বাভাবিক শরীর পাওয়ার চাহিদা পূরণ করে। রাফেজ জাতীয় খাবার আমাদের শরীরের দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। যদিও এই উপাদান বিশিষ্ট খাবারটি আমাদের শরীর সহজে হজম কিংবা শোষণ করতে পারে না তবে ঠিকমতো হজম করতে না পারলেও আমাদের শরীরের জন্য এটি খুবই প্রয়োজনীয়। এখন অনেকেই বলবেন যে এই উপাদান কোন জাতীয় খাবারে রয়েছে? তাদের উদ্দেশ্যে বলছি রাফেজ জাতীয় খাবার হচ্ছে একটি উদ্ভিজ্জ খাবার। অনেকের আবার এর সম্পর্কে ধারণা থাকতে পারে। শাকসবজি, ফলমূল, বিভিন্ন ধরনের বাদাম, বা বীজ, ইত্যাদি রাফেজের ভালো কিছু উৎস হিসেবে বিবেচনা করা যায়।
শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ঠিক রাখার জন্য প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাফেজ যুক্ত খাবার রাখা অত্যন্ত বুদ্ধিমানের একটি কাজ। অনেকেই আছে যারা ওজন কমাতে চান এটি ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখতেও বেশ উপকারী। আমাদের শরীরের একটা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে পরিপাকতন্ত্র। রাফেজ পরিপাকতন্ত্রকে সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। রাফেজ মূলত সেলুলোজ দিয়ে তৈরি। এটি সরাসরি শরীরে পুষ্টির যোগান দেয় না তবে শরীরের বিভিন্ন ধরনের কার্যক্ষমতা যেমন কোষ্ঠকাঠিন্য, হৃদরোগ প্রতিরোধ করতে বিশেষভাবে কাজ করে থাকে। রাফেজের একটি বিশেষ দিক হচ্ছে এটি সরাসরি খাদ্যনালী দিয়ে পরিবাহিত হতে পারে।
আমরা এমন কিছু খাবারের নাম জানব যে সকল খাবার আমাদের আশেপাশে সহজেই পাওয়া যায় এবং ঐসকল খাবারের মধ্যে রাফেজ যুক্ত থাকবে। আমাদের শরীরে রাফেজ জাতীয় খাবারের ভূমিকা কতটুকু ইতিমধ্যে তার একটা ভালো ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছি এখন এই উপাদান যুক্ত খাবার সম্পর্কে জানব :-
গাজর
কলমিশাক
বরবটি
করোলা
পালন শাক
মিষ্টি কুমড়া
শসা
বেগুন
মটরশুঁটি
ডাল
টাটকা ফল
পুঁইশাক
ঢেঁড়স
বাদাম
ছোলা
সজনে ডাটা
ডাটা
নাশপাতি
লাল শাক
আলু
শুকনো ফল
ধান
ওটস
কমলা
লাল চালের ভাত
উপরোক্ত সকল খাবারের মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে রাফেজ পাওয়া যায়। প্রত্যেকেরই উচিত এই সকল খাবারের মধ্যে কিছু খাবার হলেও নিয়মিত খাদ্য তালিকায় রাখা। শাকসবজি ফলমূল এ ভালো পরিমানে রাফেজ বিদ্যমান থাকে তাই এই সকল জাতীয় খাবার বেশি করে খাওয়া উচিত।
রাফেজ সম্পন্ন খাবারের উপকারিতা ও পুষ্টি গুনাগুন
খাদ্য আঁশ অর্থাৎ রাফেজ দুই ধরনের কাজ সম্পন্ন করে থাকে। একটি হচ্ছে দ্রবণীয় আর অন্যটি হচ্ছে অদ্রবনীয় আঁশ।এখন দ্রবণীয় ও অদ্রবনীয় মূলত কি? রাফেজ জাতীয় খাবার খাওয়ার ফলে অনেক সময় এই খাবারগুলো ভালোভাবে হজম হয় না অর্থাৎ রাফেজের যে অংশটি ভালোভাবে হজম হয় এবং পানির সাথে মিশে জেলি পদার্থ তৈরি করে সেটি মূলত দ্রবনীয় আঁশ হিসেবে গণ্য করা হয়। অন্যদিকে অদ্রাবনীয় রাফেজ জাতীয় খাবার মলের ভর বাড়াতে বিশেষভাবে কাজ করে থাকে।এটি মল চলাচলের সাহায্য করতে পারে।
আমরা তো ইতিমধ্যে জানতে পেরেছি যে রাফেজ পরিপাকতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সাহায্য করে । এর পাশাপাশি রাফেজের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে সেটি হচ্ছে আমাদের অন্ত্রের ভেতরে যে সকল জীবাণু রয়েছে সেগুলোর ভারসাম্য বজায় রাখতে বিশেষভাবে কাজ করে থাকে।অর্থাৎ এটি বলা যায় যে রাফেজ যেমন হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে পারে ঠিক তেমনি অন্ত্রের উপকারী হতে পারে। তাই প্রতিদিনের খাবারে অবশ্যই বিশেষ কিছু রাকেশ যুক্ত খাবার যোগ করতে হবে। এর আরো একটি উপকারিতার দিক হচ্ছে কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে বিশেষভাবে কাজ করে থাকে।
রাফেজে বিদ্যমান খাদ্য আঁশ মলের পরিমাণ কিংবা গঠন স্বাভাবিক রাখতে কাজ করে। যারা ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে ইচ্ছুক তারা অবশ্যই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় শাকসবজি,সালাদ রাখার পাশাপাশি রাফেজ যুক্ত খাবার ও রাখতে পারেন। কারণ রাফেজ যুক্ত খাবার খেলে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত পেটে ক্ষুধার অনুভূতি হয় না হঠাৎ অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। তবে রাফেজ যুক্ত খাবার খেলেই যে একেবারে ওজন কমবে তেমন কোন কথা নেই তবে ওজন নিয়ন্ত্রণে বিশেষভাবে সাহায্য করে। খাদ্য অভ্যাস দেখার পাশাপাশি শারীরিক কর্মকান্ডের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
নিয়মিত মলত্যাগ সহজ ও স্বাভাবিক করার জন্য রাফেজ জাতীয় খাবার অবশ্যই খেতে হবে। এর অদ্রবনীয় খাদ্য আঁশ খাবারের অবশিষ্ট অংশের চলাফেরা কে সুস্থ ও স্বাভাবিক করতে কাজ করে। রাফেজ শুধু মলত্যাগ সহজ করার জন্য নয় বরং অন্ত্রের সামগ্রিক পরিবেশের কাজ ঠিকমত করতেও সাহায্য করে। রাফেজ পাওয়া যেতে পারে এমন কয়েকটি খাদ্য হচ্ছে শাকসবজি, ফল বা পূর্ণ শস্য। এগুলোতে ভালো পরিমাণের রাফেজ বিদ্যমান থাকে। রাফেজের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে চাইলে এই ধরনের খাবার ও খেতে পারেন। কারণ স্বাস্থ্যকর খাবারের পরিমাণ বাড়লে শরীর ও সুস্থ স্বাভাবিক থাকে।
নিয়মিত রাফেজ যুক্ত খাদ্য খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য কিংবা বিপাকীয় বিভিন্ন সমস্যার ঝুঁকি কমানো অনেকটাই সহজ হতে পারে। আশা করি বুঝতে পারছেন রাফেজ যুক্ত খাবার আমাদের শরীরের জন্য ঠিক কতটা প্রয়োজন। তবে শুধু এই জাতীয় খাবার খেলে যে যেকোনো রোগ কিংবা সমস্যা পুরোপুরি প্রতিরোধ হবে এমন কোন কথা নেই এর পাশাপাশি সুষম খাদ্য খেতে হবে এবং শারীরিক দিক,সুস্থ থাকার বিভিন্ন বিষয় এবং ঘুমের বিষয়টি ও খেয়াল রাখতে হবে। আঁশ যুক্ত খাবার খাওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে। দেখা গেল অনেকে পানি কম খায় কিন্তু আঁশ যুক্ত খাবার বেশি খায় যার ফলে পেটের অস্বাভাবিক সমস্যারও সৃষ্টি হতে পারে। তাই এই দুই দিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করতে রাফেজের ভূমিকা কতটুকু
রাফেজের মধ্যে এমন কিছু খাবার আছে যেমন- ডাল, ওটস,লাল চালের ভাত,আটা রুটি এই সকল খাবার কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে রাফেজ যুক্ত খাবারের দ্রবণীয় আঁশ আমাদের রক্তে যে সকল ক্ষতিকর (LDL)বিদ্যমান থাকে সেগুলো কমাতে কাজ করে।কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করতে রাফেজের ভূমিকা অপরিহার্য।রাফেজ হচ্ছে উদ্ভিজ্জ খাবার থেকে পাওয়া এক ধরনের অপাচ্য সামগ্রী যেটি পুরোপুরিভাবে পরিপাক হয় না। তবে এই জিনিসটি আমাদের স্বার্থের জন্য উপকারী হয়ে থাকে।
শেষ মন্তব্য
আমরা যদি ভেবে দেখি তাহলে এটাই বুঝা যায় যে আমাদের দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় রাফেজ একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রাফেজের বিভিন্ন উপকারিতা সম্পর্কে আমরা ইতিমধ্যে জেনেছি। এই সকল গুনাগুন যদি পাওয়ার ইচ্ছে কিংবা চাহিদা আমাদের মধ্যে থাকে তাহলে অবশ্যই খাদ্য অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। সুষম খাদ্য রাখার পাশাপাশি রাফেজ যুক্ত খাবারও রাখতে হবে। রাফেজ রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করতেও বেশ সহায়ক ভূমিকা রাখে। এর আরো বিভিন্ন ধরনের ভূমিকা রয়েছে যেটি আমাদের শরীরের জন্য বেশ উপকারী। তাই অবশ্যই রাফেজ যুক্ত খাবার খেতে হবে। আমাদের শরীরের রাফেজ জাতীয় খাবারের ভূমিকা কতটুকু সেটি জেনেছি। এরকম আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে জানতে হলে অবশ্যই এই ওয়েবসাইটির পাশে থাকতে হবে। শেষ পর্যন্ত থাকার জন্য ধন্যবাদ।
মিম ব্লগার আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন।প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url