OrdinaryITPostAd

রমজান মাস জুড়ে কিভাবে ইবাদত বন্দেগি করতে হবে

রমজান মুসলিমদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি মাস। এই মাসে কিভাবে ইবাদত বন্দেগি করতে হবে?রমজান মাস কেন এতটা গুরুত্বপূর্ণ? এই সকল বিষয় সম্পর্কে থাকছে আজকের এই লেখাটি।


রমজান হচ্ছে খুবই পবিত্র একটি মাস। এই মাসটি সারা মুসলিম বিশ্বের মুখে হাসি হাসিয়ে এনে দেয়। এই রমজান মাস নিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কথা রয়েছে। পাশাপাশি কিভাবে ইবাদত করলে আল্লাহ খুশি হবে?, সে সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানানোর চেষ্টা করব।শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত  পুরো লেখাটি পড়ার অনুরোধ রইল। 

পোস্ট সূচিপত্র :-

রমজান মাসজুড়ে কিভাবে ইবাদত বন্দেগি করতে হবে

রমজান হচ্ছে ইসলাম ধর্মের মধ্যে একটি পবিত্রতম মাস। এই মাসের সকল মুসলিমগণ তাদের আল্লাহকে খুশি করার জন্য রোজা রাখে। বিশ্বের সকল মুসলিম প্রতিবছর চাঁদের উপর নির্ভর করে এই বরকতময় মাসটির জন্য অপেক্ষায় থাকে। এই মাসের প্রত্যেকটা দিনে সকল মুসলিম পানাহার থেকে নিজেকে বিরত রাখে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য। রমজান মাসে রোজা রাখা ফরজ। রোজা রাখার মূল উদ্দেশ্য ক্ষুধার্ত থাকা নয় আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও তাকওয়া অর্জন করা। 

রমজান মাসে একজন মুসলিম শিখে কিভাবে নিজের ইচ্ছাকে নিয়ন্ত্রণ রাখা যায়। ক্ষুদার্থ তো লাগলেও খাবার না খাওয়া, তৃষ্ণা  লাগলেও নির্ধারিত সময়ের আগে  পানি পান না করা। আল্লাহকে রাজি খুশি করার জন্য মুসলিমরা এই মাসে তাদের সর্বোচ্চ  চেষ্টা করে। রোজা শুধু রাখলেই হয় না এর কিছু নিয়মকানুনও রয়েছে। যেমন:-নিয়ত করা। রোজা রাখার আগেই সেই রোজা সম্পর্কে নিয়ত করতে হবে। মুখ দিয়ে প্রকাশ না করলেও রোজা রাখার নিয়ত মনে মনে করলেই যথেষ্ট। 

নিয়ত শেষ করার পর সেহরি খাওয়া হয়। মূলত সেহরি খাওয়ার পরই রোজা রাখা শুরু হয়। সেহরি সুবহে সাদিক এর আগে খেতে হয়। সেহরি খাওয়ার সুন্নত। পুরো মুসলিম বিশ্বের মানুষ সেহেরী ততক্ষণ অব্দি খায় যতক্ষণ পর্যন্ত ফজরের আজান মসজিদে না দেওয়া হয়। এরপর সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নিজের ইচ্ছে এবং  ঈমান নিয়ে আমার জন্য রোজা রাখেন। মূলত এই উপায়ে রমজান মাসে রোজা রেখে ইবাদত করা যায়।সূর্যাস্ত হয়ে যাওয়ার পর তখন ইফতার করার সুযোগ থাকে। 

তখন মাগরিবের আজানের সাথে সাথে রোজা ভাঙ্গার নির্দেশনা থাকে। রোজা ভেঙে ইফতার করার মাধ্যমেও আল্লাহকে খুশি করা যায়। ইফতার করার আগে ইফতারের দোয়া পড়ে নিলে ভালো হয়। আমরা তো ইতিমধ্যে জানতে পারলাম যে রমজান মাসে রোজার মাধ্যমে কিভাবে ইবাদত করতে হয়। রমজান মাস কিন্তু শুধু রোজা রাখতে শেখায় না এটি শিখায় কিভাবে মিথ্যা বলা থেকে বিরত থাকতে হয়, অন্যকে কষ্ট দেওয়া ও গীবত করা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে হয়।রোজা রাখার মধ্য দিয়ে কোন মুসলিম চাইলে প্রতারণা করতে পারবে না অশ্লীল কথাবার্তা বলতে পারবেনা। 

আপনিও যদি একজন ঈমানদার মুসলিম হয়ে থাকেন তাহলে আপনাকেও এই সকল কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। রোজা রাখার পাশাপাশি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও আদায় করতে হবে। এই পুরো মাসটি হচ্ছে ইবাদতের চাবিকাঠি। অন্য সকল দিন থেকে এই দিনগুলোতে ইবাদত করলে অন্য সকল দিনের চাইতে বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। আপনি যদি রোজা ভঙ্গ না করেও মিথ্যা কথা বলেন, অন্যের গীবত করেন, অন্যের ক্ষতি করেন তাহলে আপনার রোজা না চাইতেও ভঙ্গ হয়ে যাবে। মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে নিজেকে পবিত্র রাখা। রমজান মাসে পারলে বেশি বেশি করে যাকাত ও ফিতরা প্রদান করতে পারেন।

রমজান মাস শিক্ষা দেয় কিভাবে একটি পবিত্র  চরিত্র  গড়ে তোলা যায়। এইমাসে নিজের মন, চিন্তা চেতনা ও আচরণ পরিবর্তন করতে হবে। রোজা রাখার পাশাপাশি তারাবিহ  নামাজ ও আদায় করতে হবে। রমজান মাসে রাতের দিকে এশার নামাজ আদায় করার পর তারাবির নামাজ পড়তে হয়।এটি মূলত নফল নামাজ।  তারাবিহ নামাজ পড়া ও রমজান মাসে ইবাদতের আরো একটি অংশ। এর পাশাপাশি রমজান মাসে যতবারই সম্ভব কোরআন খতম দেওয়ার চেষ্টা করবেন। কোরআনকে বোঝার এবং ভালোবাসার চেষ্টা করবেন। এতে করে ঈমান মজবুত এবং আল্লাহর প্রিয় বান্দা হয়ে উঠতে পারবেন।

রমজান কি?

রমজান বলতে  ক্ষুধার্ত থাকাকে বোঝায় না  এটি হচ্ছে নামাজ পড়া,কোরআন তেলাওয়াত, প্রার্থনা ও আত্নাশুদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাস। রমজান হচ্ছে একটি আরবি শব্দ। এই মাসে রোজা রাখা ফরজ করা হয়েছে। কোরআনের সূরা আল বাকারার ১৮৩ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ এ কথাটি নিশ্চিত করেছেন।ইসলামিক ক্যালেন্ডার এর উপর ভিত্তিতে চাঁদের হিসেবে উপনির্ভর করে রমজান মাস নির্ধারণ করা হয়।  রমজান মাসে রোজা রাখা ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিধান। তবে যদি কোন ব্যক্তি এই মাসে খুবই গুরুতর অসুস্থ হয়ে থাকে তাহলে তার ক্ষেত্রে শরিয়তসম্মত রোজা রাখতে জোর করা হয়নি। 

রমজান মাসে শেষের দিকে ঈদুল ফিতর উদযাপনেরও সুযোগ থাকে। রমজান মাস এমন একটি পবিত্র মাস যেই মাসে সকল শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়। এই মাসে জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয়। জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই মাসে প্রতিটা ব্যক্তিকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করার পাশাপাশি তারাবিহ নামাজ ও আদায় করতে হয়। রমজান শুধু একটি মাস নয় এটি প্রতিটি মুসলিমদের জন্য তাদের চরিত্র বদলানোর একটি সুবর্ণ সুযোগ। এই মাসে বেশি বেশি ইবাদত করার মাধ্যমে আল্লাহর প্রিয় প্রিয় বান্দা হয়ে ওঠার সুযোগ থাকে। আশা করি রমজানের গুরুত্ব সম্পর্কে বুঝতে পেরেছেন। 

রমজান মাসে কি কি কাজ করা উত্তম 

রমজান মাস জুড়ে কিভাবে ইবাদত বন্দেগী করতে হবে সেই বিষয়েতো আমরা ইতিমধ্যে অনেক ধারণা লাভ করেছি। এখন আমরা জানবো রমজান মাসে কি কি কাজ করা উত্তম? কাজ করলে আল্লাহ খুশি হবেন? সে সম্পর্কেও জানানোর চেষ্টা করব। রমজান মাসে শুধু রোজা রাখলেই হবে না। এর পাশাপাশি এমন কিছু কাজ করতে হবে যেগুলো আমাদের চিন্তা চেতনা এবং মনকে আত্মশুদ্ধি করতে সাহায্য করে।চলুন জেনে নেওয়া যাক রমজান মাসে কি কি কাজ করা  উত্তম হবে :-

দান-সদগা করা :-রমজান মাসে দান সদগা করা খুবই উত্তম একটি কাজ। যে সকল সামর্থ্যবান মুসলিম আছে তারা চাইলে দরিদ্র কিংবা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারেন।রমজান শুধু আমাদের রোজা রাখতেই শেখায় না এর পাশাপাশি শেখায় কিভাবে অন্যের কষ্টে পাশে থাকতে হয়, অন্যের দুঃখে সাহায্য করতে হয়।  শুধু অর্থ দিয়ে যে পাশে থাকা যায় এমন কোন কথা নেই। পোশাক দেওয়ার মাধ্যম,  অসুস্থ ব্যক্তিকে সাহায্য করার মাধ্যমে, ক্ষুধার্ত ব্যক্তিকে খাবার দেওয়ার মাধ্যমে ও দান সদগা করা যায়। 

সত্য কথা বলা :-রমজান মাসে সত্য কথা বলার তুমি  উত্তম চরিত্রের অধিকারী হওয়া যায়। একবার সত্যি কথা বলা শুরু করলে, সত্যি কথা বলার স্বাদ গ্রহণ করতে পারলে সহজে আর মিথ্যার আশ্রয় নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। তাই সর্বদা সত্যি কথা বলার চেষ্টা করতে হবে। সত্যবাদীকে যেমন আল্লাহ ভালোবাসে ঠিক তেমনি মানুষও ভালোবাসে। 

ক্ষমাশীল হওয়া :-ক্ষমাশীল খাওয়া একজন মুমিনের আসল পরিচয়। কোন ব্যক্তি ভুল করলে তাকে বিনয়ের সহিত ক্ষমা করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। ক্ষমাশীল ব্যক্তিকে আল্লাহ খুব ভালোবাসে। এর মাধ্যমে মন পবিত্র এবং পরিশুদ্ধ হয়। 

কোরআন তেলাওয়াত করা :-রমজান মাসে কুরআন তেলাওয়াত করা খুবই উত্তম কাজ। তাই যতবার সম্ভব রমজান মাসে কোরআন খতম দেওয়ার চেষ্টা করবেন।কারণ রমজান মাসে কুরআন খতম দিলে অন্য সকল দিন থেকে এই দিনে বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে সরাসরি কথা বলা যায়।তাই কোরআন তেলাওয়াত করা রমজান মাসের সবচেয়ে উত্তম  একটি।

বেশি বেশি নফল নামাজ আদায় করা :-এমনিতেও রমজান মাসে তারাবিহ নামাজ পড়ার মাধ্যমে নফল নামাজ আদায় করা যায়। এর পাশাপাশি চাইলে অতিরিক্ত ভাবেও নফল নামাজ আদায় করতে পারেন। 

সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা :-উওম চরিত্রের অধিকারী হতে হলে সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে হবে। ভালো ব্যবহার একজন মুমিনকে আরো নিষ্ঠাবান হতে সাহায্য করে। 

রমজান মাসে কি কি কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে

রমজান মাসে সমস্ত মুসলিম এই চেষ্টা করে তাদের নিজের চরিত্র এবং মনকে পবিত্র রাখার। রমজান সমস্ত মুসলিমের উপর রহমত ডেকে আনে। রমজানের বিশেষ বৈশিষ্ট্য প্রত্যেকটা মানুষের ভালো পথে চলা এবং আল্লাহকে ভয় করা। রমজান মাসের মতো পবিত্র মাসে কিছু কিছু বিষয় সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে অর্থাৎ কি কি কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে অবশ্যই সেই বিষয়ে জ্ঞান থাকতে হবে। তবে রমজান মাসে নিজেকে একজন ভালো এবং চরিত্রবান মানুষ তৈরি করে কোন কাজ ভালো এবং কোন কোন কাজ খারাপ সে সকল কাজ থেকে দূরে থাকলেও অন্য সকল মাসে আবার আগের অবস্থানে চলে গেলে তাহলে এই পরিবর্তনের কোন তাৎপর্যয় রইল না। 


এই পবিত্রতা ধরে রাখা ও একটি সংকল্পের বিষয়। প্রত্যেকটা মন্দ কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখা এবং ভালো কাজে নিজেকে আগ্রহী করে তোলা রমজান সহ প্রতিমাসেই থাকতে হবে। মৃত্যুর আগ অব্দি নিজেকে একজন সত্যবাদী, ক্ষমাশীল এবং আল্লাহর প্রেমে পাগল, ক্ষমাশীল সহ একজন মুমিন ব্যক্তির আরো কি কি গুণাবলী থাকা প্রয়োজন সেই সকল গুন ধরে রাখার চেষ্টা করতে হবে। মনে রাখতে হবে আখিরাত হচ্ছে মৃত্যুর পরবর্তী জীবন। এই জীবনে সমস্ত ব্যক্তিকে তাদের নিজস্ব কৃতকর্মের হিসাব আল্লাহর কাছে দিতে হবে। এখন চলুন জানা যাক রমজান মাসে কি কি কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে :-
  • রমজান মাসের নিজের খারাপ অভ্যাসগুলোকে পরিত্যাগ করার চেষ্টা করতে হবে। যেমন:- মিথ্যা কথা বলা। মিথ্যা কথা বলা খুবই খারাপ একটি অভ্যাস। রোজা রেখে মিথ্যা বললে সেই রোজা রাখার গুরুত্ব কমে যায়। তাই মিথ্যা পরিত্যাগ করতে হবে। 
  • মুখ দিয়ে বাজে কথা বের করা খুবই মন্দ একটি কাজ। তাই বাজে কথা বলা ছাড়তে হবে। 
  • অহংকারবাদী ব্যক্তি হওয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করতে হবে। অহংকার শুধু ব্যক্তির জীবনের ধ্বংসই এনে দেয়। 
  • গীবত করা খুবই জঘন্য একটি খারাপ অভ্যাস। কেয়ামতের দিন আল্লাহ সমস্ত খারাপ কাজের হিসাব নিকাশ নিবেন। তাই গীবত পরিহার করতে হবে। 
  • মাপে কম দেওয়া। অনেক ব্যক্তি আছে যারা বিভিন্ন দোকান পরিচালনা করে। দোকানের কোন একটি পন্য ক্রেতাকে দেওয়ার ক্ষেত্রে মাপে কম দিয়ে থাকে। তাই যথার্থ পরিমাণ অনুযায়ী পণ্য দিতে হবে। 
  • অন্যের হক নষ্ট করা এটি খুবই খুবই খারাপ একটি কার। তাই অন্যের হক নষ্ট  না করে পারলে হক আদায় করার চেষ্টা করবেন। 
  • অপচয় করা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে। অপচরকারী কে আল্লাহ ভালবাসেনা।

রমজানের প্রথম ১০ দিন কিভাবে ইবাদত করতে হবে 

রমজানের পুরো মাসটি হচ্ছে রহমতের মাস। এই মাস রহমত লাভ করার একটি সুবর্ণ সুযোগ। তবে অনেকে রমজানের প্রথম ১০ দিন কে রহমতের দিন বলে থাকে। রহমত বলতে আল্লাহর দয়া বা অনুগ্রহ কে বুঝায়। রমজানের এই দিনগুলোতে বেশি বেশি করে দোয়া দরুদ ও কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহকে করা হয়। রমজানের সম্পূর্ণ মাসের প্রতিটি দিনে আমাদের জন্য আল্লাহ রহমত এবং বরকত নাযিল করে। তবে রমজানের প্রথম দিনগুলোতে বেশি বেশি করে জিকির,দোয়া, ইস্তেগফার এবং কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর রহমত লাভের চেষ্টা করা যায়। তবে কোরআন তেলাওয়াতের পাশাপাশি আল কোরআন খতম করা যায় তাহলে আরও ভালো। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য নিজেকে সমস্ত খারাপ কাজ থেকে দূরে রাখতে হবে। পাশাপাশি সবার সঙ্গে ভালো সুশৃংখল আচরণ করতে হবে। 

মাঝের দশ দিনের ইবাদতের গুরুত্ব ও ইবাদতের নিয়ম 

রমজানের মাঝে ১০ দিন কে ক্ষমা লাভের দিন বলা হয়। আমরা নিজেদের অজান্তে কিংবা ভুল করে গুনাহ করে থাকি। আল্লাহ পরম দয়ালু উনার কাছে যদি আমাদের গুনাহ নিয়ে ক্ষমা চাই তাহলে নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমা করে দেবে। তওবা করে ক্ষমা চাওয়ার মাধ্যমে আল্লাহর রহমত লাভ করা যায়। তবে মাঝের দশ দিন যে শুধু ক্ষমা চাওয়ার দিন এমন কোন কথা নেই। রমজান মাসের প্রত্যেকটা দিনেই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া যায়।ক্ষমা চাওয়া বলতে নিজের সমস্ত গুনাহ তওবা করে ভবিষ্যতের সেইসকল গুনহগুলো দ্বিতীয়বার না করার প্রতিশ্রুতি কে বোঝায়। 

তাই আল্লাহর কাছে বেশি বেশি করে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এরকম আর কোন গুনাহ না হয় সেই বিষয়ে সংকল্প নিতে হবে। পাশাপাশি অন্যের অধিকার নষ্ট না করে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। যদি কখনো কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকেন কিংবা কারো সাথে খারাপ করেন তাহলে তার কাছে মাফ চাওয়ার পাশাপাশি আল্লাহর কাছে সেই সকল কাজগুলো না করার জন্য ক্ষমা চাইতে পারেন। 

শেষের ১০ দিন ইবাদতের নিয়ম ও গুরুত্ব 

রমজান মাসে শেষের ১০ দিন সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ দশটি রোজা কিংবা দিন বলা হয়।মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)এই দিনগুলোর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। সহিহ হাদিসে পাওয়া গেছে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)তিনি এই দিনগুলোতে ইতিকাফ করতেন। তাই মুসলিমদের উচিত নবীজী (সা.) স্মরণ করা। তাই প্রত্যেক মুসলিম  চাইলে শেষের দশ দিন ইতিকাফে বসতে পারেন।তবে এই দশ দিনের আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হচ্ছে লাইলাতুল কদর। এটি মুসলিমদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি নামাজ। পবিত্র কোরআনে সূরা আল -কদরে বলা হয়েছে এই রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এই দিনে রাতে করে নামাজ আদায় করতে হয়। 

নবীজি (সা.)বলেছেন রমজান মাসের শেষের ১০ দিনের মধ্যে যে সকল দিনগুলো বিজোড় অর্থাৎ বিজোড়ের রাতগুলো যেকোনো একটি রাতে লাইলাতুল কদর হতে পারে। তাই প্রত্যেক রাতে ইবাদত করার চেষ্টা করতে পারেন। যেমন:- ২১,২৩,২৫,২৭ এই বিজোড়ের দিনগুলোতে বিশেষভাবে নামাজ পরতে পারেন। এই দিনগুলোর যেকোনো একটির মধ্যে লাইলাতুল কদরের মতো খুবই গুরুত্বপূর্ণ দিন  লুকিয়ে রয়েছে। সব দিনের চাইতে এই দিনে বেশি বেশি করে ইবাদত করলে সমস্ত গুনাহ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়। এর পাশাপাশি  তারাবিহ নামাজ ছাড়াও তাহাজ্জুতের নামাজও পড়া যেতে পারে। 

বেশি বেশি করে আল্লাহর কাছে শয়তানের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য দোয়া করতে পারেন এবং সাথে ইস্তেগফার পড়তে পারেন।ইতিকাফ মূলত আল্লাহর উদ্দেশ্যে ইবাদত করার জন্য মসজিদে যাওয়া লাগে। মসজিদ গিয়ে সমস্ত কাজকর্ম থেকে বিরত এবং কারো সাথে কথা না বলার মাধ্যমে একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করাই মূল উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। তাই আল্লাহকে পেতে চাইলে ইতিকাফে  বসতে পারেন নিজেও আল্লাহর প্রতি ইবাদতে মনোযোগী হন পরিবারকেও ইবাদত করার জন্য উৎসাহী করে তুলবেন।

রমজান মাসের সমাপ্তি হয় কিসের মাধ্যমে 

রমজানের মতো পবিত্র মাসে যারা তাদের সমস্তটা দিয়ে ইবাদত করতে পারে তারাই মূলত আসল সফলতা লাভ করতে পারে। রমজান মাসের সমাপ্তি প্রত্যেক মুসলিমদের জন্য কষ্টের একটি অধ্যায়। চাইলেও এই মাসটিকে আর ধরে রাখা যায় না। রোজার মাধ্যমে রমজান মাসের সমাপ্তি হলেও। রমজান মাস শেষ হলে শাওয়াল মাসের প্রথম দিনে উদযাপন করা হয় ঈদুল ফিতর। রমজান চলে যাওয়ার কষ্ট মনে থাকলেও ঈদুল ফিতর আসার আনন্দে সমস্ত কষ্ট দূর হয়ে যায়। এই দিনে সমস্ত মুসলিমরা তাদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয় পরিবারের সঙ্গে এমনকি বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে। ঈদুল ফিতরের দিনে সকাল সকাল উঠে সমস্ত মুসলিম গোসল করে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পোশাক পরার মাধ্যমে মসজিদে যায়  ঈদের নামাজ আদায় করার জন্য। 

সমস্ত মুসলিম সেদিন নতুন পোশাক পরে। ঈদের কথা শোনার পরই সমস্ত মুসলিমদের মন আনন্দে উতলা হয়ে যায়। সেই দিন সবাই তাদের পরিবারের সঙ্গে নামাজ আদায় করে এক অন্যজনের সাথে ভালোবাসা বিনিময় করে। সবাই সবার বাসায় যায় আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্য। ঈদের দিনের সকাল তাই শুরু হয় মিষ্টির মুখ দিয়ে। এইদিনে ধনী গরিব সহ প্রত্যেক শ্রেণীর মানুষই ভালোবাসা বিনিময় করে। তবে ঈদ মানে যে উৎসবের দিন এমন নয় এটি হচ্ছে রমজান মাসের ইবাদতের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া একটি বিশেষ দিন। এই দিনে চাইলে এতিমদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের হক আদায় করা যায়। এতে আনন্দের পরিবেশ আরো দ্বিগুণ হয়ে ওঠে। 

রমজান মাসে কি কি ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছিল 

আমরা রমজান মাস জুড়ে কিভাবে ইবাদত বন্দেগী করতে হবে সে সম্পর্কে তো জানলামই। রমজান আমাদের নৈতিক ও মূল্যবোধ গড়ে তোলার একটি সুন্দর মাস। এই মাসে গরিবদের হক আদায় করতে হয়, এতিমদের পাশে দাঁড়াতে হয়।যে ব্যক্তি এরূপ করে আল্লাহ তার প্রতি খুশি হয় এবং তার ধনসম্পদে বরকত নাযিল করে। রমজান মাস শুধু ইবাদতের মাস নয়।এই মাসে ঘটেছে অনেক ঘটনা রয়েছে ইসলামের  ইতিহাসের বিভিন্ন  গুরুত্বপূর্ণ  কিছু অধ্যায়।ইসলামী  বিশ্বাস অনুযায়ী, রমজান মাসের পবিত্র লাইলাতুল কদরের রাতে কোরআন নাযিলের বিশেষ সূচনা হয়েছিল। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)উনার কাছে প্রথম ওহী নাযিল করা ছিল হেরা গুহায়। সূরা আল আলাকের এর প্রথম পাঁচটি আয়াত অন্তর্ভুক্ত ছিল। 

এরপর দ্বিতীয় হিজরির ১৭ রমজানে, ঐতিহাসিক বর্ণনা  অনুযায়ী বদরের যুদ্ধ হয়েছিল। এটি মুসলিমদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি যুদ্ধ। এই যুদ্ধে মুসলিমের সংখ্যা কম হলেও পরিশেষে তারা জয়লাভ করেছিল।এটি মুসলিম ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। অন্যদিকে প্রিয় নবী (সা.)রমজান মাসে মুসলিমদের নিয়ে মক্কা বিজয় করেন। এই সকল ঘটনার মাধ্যমে ঈমানদের আল্লাহর উপর ভরসা আর দীর্ঘ ও অটুট হয়। এই সকল বিষয়গুলো শেখায় কিভাবে ক্ষমাশীল হতে হয় এবং ন্যায়পরায়নতার সহিত জীবন পরিচালনা করা যায়। প্রত্যেকটি মুসলিমকে এই সকল ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে তাহলে ইসলামের প্রতি ভালোবাসা আরো বেশি বেড়ে যাবে। 

শেষ আলোচনা 

রমজানের বিশেষত্ব বলে শেষ করা সম্ভব নয়। আমাদের প্রত্যেক মুসলিমদের উচিত রমজান মাস কে সম্মান করা এবং বেশি বেশি করে রমজান মাসে ইবাদত বন্দেগি করা। রমজান আসার আগেই মুসলিমরা রমজানের আমেজ টের পেয়ে থাকে। তাই রমজানকে কাজে লাগিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করার জন্য যথার্থ চেষ্টা করতে হবে। কিভাবে রমজান মাসে ইবাদত বন্দেগী করতে হবে সেই বিষয়গুলো খেয়াল করে ইবাদত করার চেষ্টা করবেন। রমজানের গুরুত্ব জানতে হলে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো লেখাটি পড়তে হবে।শেষ  পর্যন্ত থাকার জন্য ধন্যবাদ। এরকম আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে সাথে থাকুন। 


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

মিম ব্লগার আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন।প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪