আমাদের দৈনন্দিন সমস্যার মধ্যে চুল ঝরা হচ্ছে একটি অন্যতম প্রধান সমস্যা। এমন মানুষ কমই পাওয়া যায় যাদের চুল ঝরে না। আজকাল চুল পড়ার জন্য বয়সের প্রয়োজন হয় না। ছোট থেকে বড় এই একই সমস্যা হয়ে থাকে। তাই আজকে চুল মুজবুত, ঘন কালো, চুলের ফাটা রোধ এবং অতিরিক্ত চুল ঝরা রোধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার ভিন্ন ভিন্ন প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করবো।
চুল আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। একদিকে অনেকেই আছে যারা প্রতিনিয়ত চুলের যত্ন করে কিন্তু এরপরও চুল ঝরে থাকে অন্যদিকে কিভাবে চুল পরিচর্যা করতে হয় সেটি না জানার ফলে চুল ঝরে থাকে। নারী এবং পুরুষের সৌন্দর্যের জায়গাটি হচ্ছে চুল। আর যখন এই চুল পড়ে যায় তখন এমনিতেই মন খারাপ হয়ে পড়ে। বিভিন্ন সমস্যার কারণে চুলের এমন অবস্থা হতে পারে।
পোস্ট সূচিপত্র
কিভাবে চুলের সমস্যা উপলব্ধি করব
আমাদের চুলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা যেতে পারে তবে সবার সমস্যা যে এক রকম হবে এমন কোন কথা নেই । চুলের সমস্যার মধ্যে অতিরিক্ত পরিমাণে মাথা থেকে চুল পড়ে যাওয়া এখন একটি প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।এর পাশাপাশি চুলের আগার মধ্যে সাদা সাদা এক ধরনের স্পট সৃষ্টি হয় এটি মূলত চুল ভেঙে পড়ার লক্ষণ। একবার চুলের আগায় সাদা স্পট সৃষ্টি হলে চুল বাজেভাবে ড্যামেজ হয়ে পড়েছে সেটি বোঝা যায়।
যে অবধি এই সাদা স্পট দেখা যায় সে অব্দি চুল ভেঙে পড়ে যায়। চুলে খুশকির মত সমস্যাও অনেক সময় লক্ষ্য করা যায়। চুল সুস্থ আছে কিনা সেটি বুঝতে এ সমস্যাগুলো আছে কিনা এ বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।চুল অতিরিক্ত ড্রাই হয়ে যাওয়া একটি সমস্যা কারণ বাজে শ্যাম্পু ব্যবহারের ফলে চুলের ন্যাচারাল অয়েল অনেক সময় হারিয়ে যায়।
পুষ্টিকর খাবার কি আদৌ চুলের যত্নে উপকারী
যদি প্রাকৃতিক ভাবে চুলের যত্ন করার ইচ্ছে থাকে তাহলে পুষ্টিকর খাবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।আমাদের মধ্যে অনেকে আছে বিভিন্ন প্রকারের জিনিস চুলে ব্যবহার করে থাকি তবে ব্যবহারের পাশাপাশি যে সকল খাবার আমাদের চুল মজবুত করতে সাহায্য করে এবং চুলকে হেলদি রাখে সে সকল খাবার খাওয়া আমাদের সকলের উচিত।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই খাবারগুলো কি কি? যা আমাদের চুলের জন্য উপকারী! আসুন কিছু বিষয়ে জানা যাক। অনেক সময় প্রোটিনের অভাবে চুলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয় এমনকি চুল ঝরে পড়ে যায়। এজন্য খাদ্য যেমন সিদ্ধ ডিম খাওয়া যেতে পারে। আরো খাবার আছে চুল ঝরা রোধ করতে সাহায্য করে যেমন- বাদাম।।
আবার চুলে যদি কোন ভিটামিনের অভাব হয়ে থাকে তাহলে সেই ভিটামিনযুক্ত খাবার খাওয়া উচিত।
এগুলোর পাশাপাশি রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস পানিতে এক চামচেরও কম অল্প অল্প করে কিছু কালিজিরা, মেথি দানা, ত্রিশিদানা, লং ভিজিয়ে রেখে সকালে এরমধ্যে মধু দিয়ে খাবেন এটি চুলের জন্য খুব উপকারী একটি প্রক্রিয়া। তবে অস্বাস্থ্যকর খাবার থেকেও দূরে থাকতে হবে কারণ অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার ফলে অনেক সময় চুলে নানা ধরনের সমস্যা দেখা যায়।
কি কি কারনে চুল পড়ে সেই বিষয়ে ধারণা
কিছু বিষয় আছে যেগুলো না জানার ফলে আমাদের চুল পড়ে যায়। মূলত আমাদের কিছু ভুলের কারণে এরকম সমস্যার সৃষ্টি হয়। প্রথমে হচ্ছে টাইট করে চুল বাধা কারণ টাইট করে চুল বাঁধলে চুলে টান পড়ে এর ফলে চুল পড়া বেড়ে যায়। অনেক সময় আমরা চুল বাধার ক্ষেত্রে রাবার ব্যান্ডের ব্যবহার করি। অথচ আমাদের মধ্যে অনেকেই জানিনা যে এটি ব্যবহার করার ফলে চুল পড়ে যায়।
তাই চুল বাধার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে রাবার ব্যান্ড ব্যবহার করা যাবে না। আমরা কি অনেকেই জানি যে ঘুমানোর মাধ্যমেও আমাদের চুল পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে? অবশ্যই থাকে যদি সেই চুলটি হয় ভেজা। অনেক সময় শ্যাম্পু করার মাধ্যমে ও আমাদের চুল ঝরে পড়ে যায় আর তার কারণটি হচ্ছে খুব জোরে চুল ধোয়া।
আমরা অনেক সময় খুব তাড়াহুড়া করে শ্যাম্পু মাধ্যমে হাত দিয়ে চুল পরিষ্কার করে থাকি যেটি আমাদের চুলকে ঝরতে বাধ্য করে। কারণ হাত দিয়ে জোরে জোরে ঘষলে চুলের ক্ষতি হয় ফলে চুল পড়া বেড়ে যায়। তাই চুল ধোয়ার ক্ষেত্রে শ্যাম্পু দিয়ে আলতো আলতো করে সেটি পরিষ্কার করতে হবে। শুধু ধোয়ার পর এটি শুকানোর জন্য অনেক সময় আমরা টাওয়েল দিয়ে খুব জোরে জোরে চুল ঝাড়তে থাকি যাতে শুকিয়ে যায়।
এটি হচ্ছে সবচেয়ে বড় একটি ভুল ধারণা। চুল ভেজা থাকা অবস্থায় জোরে জোরে ঝারার ফলে চুল পড়া বেড়ে যায়। ভেজা চুল রোদে শুকালেও চুল ড্যামেজ হয়ে পড়ে। তাই চুল শুকানোর ক্ষেত্রে সাবধান হতে হবে। বাজে শ্যাম্পু ব্যবহারের ফলেও চুল ড্রাই হয়ে ঝরে পড়ে যায়। চুল হচ্ছে খুব সেনসিটিভ একটি উপাদান এটি যত্নে খামখেয়ালি করা যাবে না।
চুল দুর্বল হওয়ার বিশেষ কিছু কারণ
সঠিক যত্নের অভাবে ধীরে ধীরে চুল দুর্বল হয়ে পড়ে।একবার চুল দুর্বল হয়ে গেলে এমন ভাবে চুল পড়া শুরু হয় যা ঠেকানো মুশকিল হয়ে পড়ে।এছাড়াও অনেক সমস্যার দেখা দেয়। অনেক সময় আমরা চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য নানা প্রকৃতির কালার ব্যবহার করে থাকি চুলে। সেই সকল কালারে কেমিক্যালের উপস্থিতি দেখা দেয় যেটি আমাদের চুল দুর্বল করার ক্ষেত্রে খুবই কাজ করে থাকে।
তারপর চুলে বিভিন্ন ধরনের হিটার যুক্ত মেশিন ব্যবহার করে থাকি যেমন- চুল শুকানোর মেশিন, চুল সোজা করার মেশিন, চুল কোকরা করার মেশিন। এই সকল জিনিস আমাদের চুলকে দুর্বল করার ক্ষেত্রে খুবই একটিভ ভাবে কাজ করে।এগুলো প্রতিনিয়ত ব্যবহার করলে চুল তার স্বাভাবিক অয়েল হারিয়ে থাকে। তাই চুল যত্ন করার উদ্দেশ্য থাকলে যে সকল বিষয় চুলকে দুর্বল করে তুলে সে সকল বিষয় থেকে বেঁচে থাকতে হবে।
অল্প বয়সে চুল ঝরার প্রধান কিছু কারণ
চুলের সমস্যা সৃষ্টির জন্য আজকাল কোন বয়সের প্রয়োজন হয় না। বর্তমানে যেকোনো বয়সে চুল পেকে যায়, চুল ঝরে যায় কিংবা চুলের গোড়া নরম হয়ে পড়ে।তবে চুলের যত্নে কোন বয়সের প্রয়োজন হয় না ।যেকোনো বয়সেই চুলের যত্ন নেওয়া সম্ভব। অনেকেই আছে যাদের চুল জন্মের পর থেকেই দুর্বল থাকে কিংবা চুলের গোড়া নরম থাকে। এমনটি হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শের জরুরি এবং এর পাশাপাশি কিছু প্রয়োজনে ব্যবস্থাও গ্রহণ করা উচিত।
অনেক সময় বেশিক্ষণ চুল পানিতে ভেজানো থাকলে সেটি নরম হয়ে ছিড়ে যায় অর্থাৎ চুলকে অতিরিক্ত সময় ধরে ভিজিয়ে রাখা উচিত নয়। চুল চিরুনি দিয়ে বারবার জোরে জোরে আঁচড়ানো চুল পড়ার সম্ভাবনাকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই অল্প বয়স থেকেই চুলের যত্নে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে। অনেক সময় বিভিন্ন ভিটামিন কিংবা প্রোটিনের অভাবে ছোট বয়সেই চুল পেকে যায় এই বিষয়টির দিকেও জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে।
যদি চুল ঝরে পড়ার কারণ ভিটামিন কিংবা প্রোটিনের জন্য হয়ে থাকে তাহলে যে সকল খাবার এগুলো বিদ্যমান প্রতিনিয়ত সেগুলো খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে। আবার অল্প বয়সে চুল ঝরে পড়া কিংবা টাক পড়ার একটি অন্যতম কারণ হচ্ছে অতিরিক্ত চিন্তা করা। তাই সব সময় চিন্তা মুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে। এর পাশাপাশি অসাস্থ্যকর খাবার খাওয়াও পরিত্যাগ করতে হবে কারণ এটি শরীরের বিভিন্ন সমস্যার পাশাপাশি চুলের সমস্যাও সৃষ্টি করে। আরো কিছু কারণ নিচে দেওয়া হলো-
- চুলের সঠিক যত্নের অভাবে এটি দুর্বল হয়ে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
- চুল লম্বা একটা সময় ধরে অপরিষ্কার রাখার ফলে অল্প বয়সেই চুল ঝরে পড়ার মতো বাজে একটা অবস্থার সৃষ্টি হয়।
- অনেক সময় হরমোন পরিবর্তনের কারণে ও অল্প বয়সে চুল পড়া বেড়ে যেতে পারে।
- সঠিক শ্যাম্পু বাছাই না করার ফলে চুল ধীরে ধীরে ডেমেজ হয়ে একটা সময় সেটি চুল পড়ার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি করে দেয়।
- বিভিন্ন রোগের কারণেও ঝরে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।
অল্প বয়সে চুল ঝরা কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা
আমরা একটু আগেই চুল ঝরে পড়ার বিভিন্ন কারণ সম্পর্কে অবগত হয়েছি। এখন এর কিছু প্রতিকার সম্পর্কে আলোচনা করব। পুষ্টিকর বিভিন্ন খাবার এই সমস্যা প্রতিকারে বিশেষভাবে সাহায্য করতে পারে। তাই খাদ্য তালিকায় পুষ্টিযুক্ত খাবার নিয়োগ করা উচিত। নিয়মিত চুল পরিষ্কার রাখার উচিত অর্থাৎ সপ্তাহে এক থেকে দুইবার ভালো মানের শ্যাম্পু দিয়ে চুল পরিষ্কার রাখতে হবে। এইটা চুল পড়া কিছুটা কমার সম্ভাবনা থাকে।
চুল পড়া রোধে খাদ্য তালিকায় আয়রন, ভিটামিন সি এবং ভিটামিন ডি যুক্ত খাবার রাখলে অনেক সময় চুলের বিভিন্ন ভিটামিন কিংবা প্রোটিনের অভাব মেটাতে সাহায্য করে। অল্প বয়সে ঝরে পড়ার অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে ধূমপান তাই এই ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে এটি যেমন চুলের জন্য ক্ষতিকর তেমনি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয়ে থাকে। তবে যদি কোন রোগের কারণে চুল পড়ে তাহলে অবশ্যই ডক্টরের শরণাপন্ন হতে হবে।
কিভাবে চুলের গোড়া শক্ত করতে হবে
চুলের গোড়া শক্ত রাখার জন্য অবশ্যই পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি চুলের সঠিক যত্ন নিতে হবে। অনেক সময় স্ক্যাল্পে বিভিন্ন পরিবেশ পরিস্থিতির ফলে ময়লা জমা হয়ে থাকে। তাই চুলের গোড়ার ত্বক পরিষ্কার রাখা খুবই প্রয়োজন। এর পাশাপাশি সুস্থ স্বাভাবিক জীবনযাপন করাও প্রয়োজন। অবশ্যই সপ্তাহে এক থেকে দুই বার চুলের শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে আলতোভাবে। টেম্পু দিয়ে ধোয়ার পর অবশ্যই কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে।
কারণ চুল শ্যাম্পু করার পর তার ন্যাচারাল অয়েল হারিয়ে ফেলে আর কন্ডিশনার সেই ন্যাচারাল ওয়েল ধরে রাখতে সাহায্য করে। শ্যাম্পু করার পাশাপাশি সপ্তাহে দুইবার কিংবা তিনবার যেকোনো ধরনের অর্থাৎ নারিকেল কিংবা আমন্ড তেল মাথায় দিয়ে ম্যাসাজ করলে চুলের গোড়া শক্ত হয়। অর্থাৎ এই ম্যাসাজের পরে রক্ত সঞ্চালন বেড়ে যায় ফলে চুলের গোড়া মজবুত করতে সাহায্য করে।তাই অবশ্যই ব্যবহার উপযোগী তেল দিয়ে মাথা ম্যাসাজ করা আবশ্যক।
এছাড়া বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার যেমন - ভিটামিন এ,সি, এবং বায়োটিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন মাছ, দুধ, বাদাম, ডাল মিষ্টি আলু ইত্যাদি খাবার রাখা উচিত। এগুলো চুলের গোড়া শক্ত করতে বিশেষভাবে কাজ করে। খাদ্য তালিকায় ফলও রাখা যেতে পারে। মাথা থেকে অবশ্যই মানসিক চাপ কমাতে হবে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ রাতে ঘুমাতে হবে। কারণ সুস্থ স্বাস্থ্য যেমন শরীরের জন্য উপকারী তেমনি চুলের জন্য উপকারী হয়ে থাকে।
যদি কোন বিশেষ রোগের ফলে চুল ঝরে পড়ে তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে । অর্থাৎ নিয়মিত যত্নের পাশাপাশি সুষম খাদ্য খাওয়ার মাধ্যমে চুলের গোড়া শক্ত এবং মজবুত হয়ে থাকে। এছাড়াও চুল দুর্বল করার আরেকটি দিক হচ্ছে রাসায়নিক যুক্ত প্রসাধনী ব্যবহার করা। তাই এই জিনিসগুলো ব্যবহার করার ক্ষেত্রে বিবেচনা করতে হবে কারণ এগুলোর ব্যবহারে পর ফলে চুল পড়া সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
চুল ঝরা রোধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা
চুল ঝরার ধরন বিভিন্ন উপায়ে হয়ে থাকে যেমন চুলের আগা ফেটে গিয়ে চুল ভেঙে ভেঙে পড়ে আবার চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে গোড়া থেকে ঝরে পড়ে। চুল যদি আগা থেকে ভেঙে পড়ে তাহলে প্রতিদিন রাতে কিছুটা তেল নিয়ে সে আগার ভিতরে দিয়ে ঘুমাতে পারেন।চেষ্টা করবেন প্রতিদিন রাতে দিয়ে রাখার। চুল বাঁধার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত টাইট করে না বেঁধে লুজ করে বেধেঁ রাখবেন।
আর অবশ্যই ভেজা চুলে চিরুনি দিয়ে আঁচলানো যাবে না কারণ এর ফলে চুল ছিঁড়ে পড়ে যেতে পারে।ভেজা চুল টাওয়েল দিয়ে বেশিক্ষণ বেঁধে রাখা যাবে না এতে চুলের ক্ষতি হতে পারে। আবার অতিরিক্ত চুল ঝরলে চুলে কোন ভিটামিনের অভাব সেটি জানতে কিছু পরীক্ষাও করা যেতে পারে এতে করে যদি ভিটামিন এ কিংবা ডি এর অভাব থাকে তাহলে এই সকল ভিটামিন যুক্ত খাবার খাদ্য তালিকায় রাখা যেতে পারে।
শ্যাম্পু যার মধ্যে সালফেট কিংবা ফ্রাগরেন্স বিদ্ধমান নেই এমন কিছু দিয়ে মাথা পরিষ্কার রাখতে হবে কারণ অনেক সময় বাহিরে চুল ছাড়া গেলে বিভিন্ন ধরনের ধুলাবালির স্পর্শ চুলে ময়লা আটকে যায়। এই ময়লা সৃষ্টি হয়ে চুলকে ড্যামেজ করে দেয় তাই চেষ্টা করতে হবে বাহিরে যাওয়ার সময় মাথা ঢেকে বের হওয়ার। এর ফলে চুল ধুলাবালির কম স্পর্শে আসবে।
কি কি করলে নতুন চুল গজাবে
চুলের গোড়া মজবুত এবং নতুন চুল গজানোর জন্য সবচেয়ে ভালো একটি উপায় হচ্ছে হিয়ার ম্যাসাজ। কারণ হেয়ার ম্যাসাজ এর ফলে ব্লাড সার্কুলেশন যত বৃদ্ধি পায় তত নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। এই ম্যাসাজ টি তেল দিয়ে এবং শ্যাম্পু করার সময় কিছুক্ষণ করলেই চলবে। আমার মতে যে কোন কেমিক্যাল এর সাহায্য না নিয়ে ঘরোয়া এবং স্বাস্থ্যকর উপায়ে নতুন চুল গজানোর বিভিন্ন প্রক্রিয়া চেষ্টা করে দেখা উচিত।
তবে মাসে এক থেকে দুইবার মাথায় পেঁয়াজের রস ব্যবহার করা যেতে পারে।পেঁয়াজ আমাদের চুলের খুব ভালো একটি উপাদান। পেঁয়াজের রস কিংবা তেল ব্যবহার করার ক্ষেত্রে অবশ্যই স্ক্যাল্প পরিষ্কার রাখতে হবে। সুষম খাদ্য খাবার মাধ্যমেও নতুন চুল গজায়।হেলদি খাবার নতুন চুল গজানোর জন্য বেশ ভালো একটি ভূমিকা পালন করে।
শেষ মন্তব্য
আজকের এই পোস্টটির মাধ্যমে আমরা চুলের গোড়া মজবুত, সুন্দর, চুল ঝরা রোধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পেরেছি। কিভাবে সঠিক যত্নের মাধ্যমে চুলকে স্বাস্থ্যকর রাখা যায় সেই বিষয়ে ইতিমধ্যে অনেক কথাই বলা হয়েছে। তবে শুধু সবকিছু জানলেই চলবে না তার পাশাপাশি এসব বাস্তবায়ন করতে হবে। কারণ আমাদের শরীরের সবচেয়ে সুন্দর একটি বিষয় হচ্ছে চুল।
চুল মানুষের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে দ্বিগুণ ভূমিকা পালন করে। তাই এই বিষয়ে খামখেয়ালি করা চলবে না। চুলের সঠিক অভাব মেটাতে পারলেই তার অধিকাংশ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তাই অবশ্যই অতিরিক্ত চুল ঝরা রোধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করতে হবে। এরকম আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে জানতে পেজটি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন।
মিম ব্লগার আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন।প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url